দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি তৈরি করেছে চীন। অতিশব্দগত গতির ভাসমান যানের মাধ্যমে আকাশ থেকে আকাশে অস্ত্র নিক্ষেপের এ সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ অভিযান, বিশেষ করে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে অবস্থান করা সহায়ক বিমানগুলোর জন্য নতুন হুমকি তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।
বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত একটি সূত্রের বরাতে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, চীনের সামরিক বাহিনী এমন অতিশব্দগত গতির ভাসমান যান তৈরি করেছে, যা আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র বহন করতে পারে। এসব অস্ত্রের লক্ষ্য হতে পারে কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ বিমানসহ দূরে অবস্থান করা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমান।
এ অস্ত্রব্যবস্থা আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, আগাম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণকারী বিমান এবং উড়ন্ত কমান্ড পোস্টের জন্য হুমকি হতে পারে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর ই-৪বি নাইটওয়াচও রয়েছে।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, চীন তাদের কিছু অতিশব্দগত গতির ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রে আকাশ থেকে আকাশে আঘাত হানার সক্ষমতা যুক্ত করেছে। একই সঙ্গে কয়েক ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রে জাহাজবিধ্বংসী সক্ষমতাও তৈরি করা হয়েছে।
অতিশব্দগত গতির ভাসমান যান এমন এক ধরনের যুদ্ধাস্ত্র, যা ক্ষেপণাস্ত্র থেকে উৎক্ষেপণের পর বায়ুমণ্ডলের মধ্যে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলতে পারে এবং লক্ষ্যবস্তুর দিকে যাওয়ার পথে গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম। এ সক্ষমতা এর পাল্লা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরোধ করাও কঠিন করে তোলে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের ডিএফ-১৭ ক্ষেপণাস্ত্র থেকে উৎক্ষেপিত এমন একটি যান প্রায় ২ হাজার ৪১৪ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারে। অন্যদিকে, ডিএফ-২৭ ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার বলে ধারণা করা হয়, যা হাওয়াই পর্যন্ত দূরের লক্ষ্যবস্তু এর আওতায় আনতে পারে।
তবে এত দূরের আকাশে থাকা কোনো বিমানকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রভিত্তিক অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা ব্যয়বহুল, কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। সর্বোচ্চ পাল্লায় নিক্ষেপ করা হলে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে ২০ মিনিট বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। এ সময় লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান সম্পর্কে অত্যন্ত নির্ভুল ও নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন হয়।
এ ছাড়া দূরের সেন্সর থেকে লক্ষ্যবস্তুর তথ্য সংগ্রহ করে ক্ষেপণাস্ত্রের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দীর্ঘ প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলাকে পারমাণবিক হামলা হিসেবে ভুল বোঝার আশঙ্কাও থাকায় যুদ্ধের সময় এ অস্ত্রের ব্যবহার আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্রভান্ডারের অধিকারী চীনের কাছে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ১৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩০০টি স্থলভিত্তিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালের তুলনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বেড়েছে ১৪৭ শতাংশ এবং স্থলভিত্তিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বেড়েছে ৫০ শতাংশ।
দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র ভবিষ্যতের যেকোনো সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। চীনের নতুন এ সক্ষমতা সেই প্রতিযোগিতায় দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে আরেকটি বড় সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
/অ